পশ্চিমবঙ্গ ভারতের দক্ষিন-পূর্বদিকে অবস্থিত একটি রাজ্য যার রাজধানী কলকাতা। পশ্চিমবঙ্গের ভূ-প্কৃতি বিচার করে বলা যেতে পারে এটি প্রকৃতির দেওয়া অনন্য সুন্দর একটি উপহার যা সুন্দর সুন্দর পাহাড়ি জায়গা, ঝর্না, সমুদ্রসৈকত আর ঘন বনানীতে সমৃদ্ধ।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহর যা অতি প্রাচীন অট্টালিকা এবং ঐতিহ্যের এক সুচারু মেলবন্ধন। কলকাতা শহর জনবহুল এলাকা। যানবাহন, কোলাহল, কলকারখানার শব্দ, গরম ইত্যাদিতে ঠাসা। এই একঘেয়েমি জীবনযাত্রা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেরই মন করে কোন পাহাড়ি শান্ত এলাকায় কিছুটা সময় কাটিয়ে আসতে। পাহাড়ের সুন্দর, মনোরম ও নয়নাভিরাম পরিবেশ এবং নিস্তব্ধ প্রকৃতি একজন ভ্রমনপিপাসুকে সর্বদাই নিজের কেন্দ্রে আকর্ষন করে।
আজকের এই প্রতিবেদনে সেরকমই কিছু সুন্দর পাহাড়ি জায়গার কথা বলা হয়েছে। চলুন দেখা যাক।
১. অযোধ্যা পাহাড় :
অযোধ্যা পাহাড় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিনে পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত। ভগবান রামা অযোধ্যা থেকে নির্বাসনের পর যাত্রাপথে এই অযোধ্যা পাহাড়েই কিঞ্চিত বিশ্রাম নিয়েছিলেন। অযোধ্যা পাহাড় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৫৫ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এবং সর্বোচ্চ বিন্দু নামে পরিচিত। ট্রেকিং, রক্ ক্লাইমবিং প্রভৃতির জন্য অযোধ্যা পাহাড় পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষন।
• কলকাতা থেকে অযোধ্যা পাহাড়ের দূরত্ব ৩০৪ কিলোমিটার।
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বোকারো বিমানবন্দর, সোনারি বিমানবন্দর এবং ধানবাদ বিমানবন্দর
- রেলপথে : পুরুলিয়া রেলওয়ে স্টেশন
• অযোধ্যা পাহাড়ে যাওয়ার সেরা সময় :
সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস আদর্শ। মন মুগ্ধকর পরিবেশ উপভোগের সেরা সময়।
• দর্শনীয় স্থান :
অযোধ্যা পাহাড়ের কাছাকাছি আছে ডালমা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, ঝিলিমিলি, টাটা স্টিল, জুয়োলজিক্যাল পার্ক, দিমনা লেক। এছাড়া আছে বারেহিপানা ঝর্না এবং জোরান্ডা ঝর্না যা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষন।
২. শিলিগুড়ি :
শিলিগুড়ি ভ্রমন পিপাসু বাঙালীদের কাছে একটি অতি পরিচিত জায়গা। শিলিগুড়ি থেকে অনায়াসেই হিমালয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া পরিবহন ব্যাবস্থা খুবই উন্নত।
• কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বাগডোগরা বিমানবন্দর
- রেলপথে : নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন
-অন্যান্য : বাস, প্রাইভেট গাড়ি
• শিলিগুড়ি যাওয়ার সেরা সময় :
অক্টোবর থেকে মার্চ মাস আদর্শ।
• দর্শনীয় স্থান :
শিলিগুড়ির কাছাকাছি আছে কালী মন্দির, জলদাপাড়া ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, করোনেশান ফলস্ প্রভৃতি উল্লখযোগ্য।
৩. শিমূলতলা :
কলকাতার অসহ্য গরম থেকে রেহাই পেতে শিমূলতলা পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষন। শিমূলতলা বিহারে অবস্থিত। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি। আর সেইজন্যই ব্যস্ত শহরের মানুষজন এই জায়গাটিকে বেশি করে বেছে নেয় সময় কাটাতে।
• কলকাতা থেকে শিমূলতলার দূরত্ব প্রায় ৪০৮ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- রেলপথে : শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন থেকে
- অন্যান্য : ক্যাব, বাস বা প্রাইভেট গাড়ি
• শিমূলতলা ভ্রমনের সেরা সময় :
অক্টোবর ও নভেম্বরের মাঝামাঝি
• দর্শনীয় স্থান :
শিমূলতলার কাছাকাছি আছে লাট্টু পাহাড়, পাটনা লজ, লিলাবারান ফসল্, ধরহারা ফলস্, হালদি ফলস্ ইত্যাদি।
শিমূলতলা প্রকৃতি পর্যবেক্ষন ও রাতের আকাশ উপভোগ করার জন্য আদর্শ।
৪. নেতারহাট :
নেতারহাট পশ্চিমবঙ্গর পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থিত একটি অতি সুন্দর অথচ কম পরিচিত পর্যটন ক্ষেত্র। জয়গাটি ঘন সবুজ বনানীতে মোড়া। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অনন্য সুন্দর নয়নাভিরাম দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার জন্য পর্যটকরা এই জায়গাটি বেছে নেন। উন্নত সভ্যতার আবরন থেকে জায়গাটি সম্পূর্ণ অনাবৃত।
• কলকাতা থেকে নেতারহাটের দূরত্ব ৫৭৫ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বিরশামুন্ডা বিমানবন্দর, রাঁচি বিমানবন্দর
- রেলপথে : রাঁচি স্টেশন
- অন্যান্য : প্রাইভেট গাড়ি (সেরা মাধ্যম)
• নেতার ভ্রমনের সেরা সময় :
ভ্রমনের জন্য জায়গাটি সারাবছরই আদর্শ
• দর্শনীয় স্থান :
বেতলা ন্যাশানাল পার্ক, পুনে ফরেস্ট, মগনোলিয়া পয়েন্ট, আপার ঘাঘরি ওয়াটার ফলস্ ও লোয়ার ঘাঘরি ওয়াটার ফলস্
৫. কার্শিয়াং :
দার্জিলিং যাওয়ার পথে, কার্শিয়াং হল শহুরে কোলাহল ও কর্মব্যস্ততা থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং ছুটি কাটানোর অন্যতম সেরা জায়গা। কার্শিয়াং- এর পাড়ার বেয়ে নামা ঘন সবুজ চায়ের বাগান, মন মুগ্ধকর পর্বতমালা, মন্দির, গির্জা এবং নানা ঐতিহাসিক পটভূমি পর্যটকদের কে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিতে থাকে। দুই-তিন হাতে সময় থাকলে কার্শিয়াং ঘুরে বেড়িয়ে আসতে পারেন। লেপচা ভাষায় কার্শিয়াংকে বলা হয় 'সাদা অর্কিডের দেশ'।
• কলকাতা থেকে কার্শিয়াং এর দূরত্ব ৫৮৪ কিলোমিটার।
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বাগডোগরা বিমানবন্দর
- রেলপথে : নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন
- অন্যান্য : বাস বা প্রাইভেট গাড়ি
• কার্শিয়াং ভ্রমনের সেরা সময় :
পাহাড়ি জায়গা হওয়ার দরুন বর্ষাকাল অর্থাৎ জুন ও জুলাই মাস বাদ দিয়ে যেকোন সময় যাওয়া যায়।
• দর্শনীয় স্থান :
Deer Park, Tea Garden, Eagle's Craig, Ambotia Shiva Mandir, Forest Museum, Netaji Subhas Chandra Museum এবং Darjeeling Himalayan Railway Museum
৬. মিরিক :
মিরিক পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি জায়গাগুলির মধ্যে অন্যতম একটি অতি পরিচিত এবং সুন্দর পর্যটন ক্ষেত্র। মিরিক দার্জিলিং এর যমজ শহর নামেও পরিচিত। মিরিক বৌদ্ধ সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান। তাই সেসব পর্যটক বৌদ্ধ সংস্কৃতির ব্যাপারে আগ্রহী মিরিক তাদের জন্যও আদর্শ জায়গা।
• কলকাতা থেকে মিরিকের দূরত্ব ৫৯৬ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- কলকাতার কাছাকাছি অন্যান্য পাহাড়ি এলাকার মতো মিরিক যাওয়ার কোনো আলাদা বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন নেই। মিরিক যাওয়ার সেরা মাধ্যম হতে পারে বাস।
• মিরিক যাওয়ার সেরা সময় :
মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস মিরিক যাওয়ার জন্য উপযুক্ত
• দর্শনীয় স্থান :
কার্শিয়াং, ঝড়পোখরা, লেপচাজগত, এবং সুখিয়াপোখরা উল্লেখযোগ্য
৭. দার্জিলিং :
দার্জিলিং সম্বন্ধে বিশেষ কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। দার্জিলিং পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে অবস্থিত আরেক অতি সুন্দর পর্যটন ক্ষেত্র। অনন্য সুন্দর মন মুগ্ধকর পাহাড়ি সন্দর্যের জন্য দার্জিলিং কে 'পাহাড়ের রানি' বলা হয়। এছাড়া জায়গাটিকে ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। সারাবছর শীতের পরশ থাকায় পর্যটকদের কাছে দার্জিলিং ভ্রমনের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় জায়গা।
• কলকাতা থেকে দার্জিলিং এর দূরত্ব ৬১২ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বাগডোগরা বিমানবন্দর
- রেলপথে : নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন
• দর্শনীয় স্থান :
Tiger Hill, Great Himalayan Railway, Rock Garden, Japanese Peace Pagoda, Batasia Loop, Nightingale Park and Padmaja Naidu Himalayan Zoological National Park
কলকাতার কাছাকাছি এই ছিল কিছু অনন্য সুন্দর পাহাড়ি পর্যটন ক্ষেত্র, কাজের একঘেয়েমি কাটাতে যাদের জুরি মেলা ভার। আমি আশা করি এই প্রতিবেদনটি আপনাদের পরবর্তী সময়ে অনেক কাজে আসবে। ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন । ধন্যবাদ।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহর যা অতি প্রাচীন অট্টালিকা এবং ঐতিহ্যের এক সুচারু মেলবন্ধন। কলকাতা শহর জনবহুল এলাকা। যানবাহন, কোলাহল, কলকারখানার শব্দ, গরম ইত্যাদিতে ঠাসা। এই একঘেয়েমি জীবনযাত্রা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেরই মন করে কোন পাহাড়ি শান্ত এলাকায় কিছুটা সময় কাটিয়ে আসতে। পাহাড়ের সুন্দর, মনোরম ও নয়নাভিরাম পরিবেশ এবং নিস্তব্ধ প্রকৃতি একজন ভ্রমনপিপাসুকে সর্বদাই নিজের কেন্দ্রে আকর্ষন করে।
আজকের এই প্রতিবেদনে সেরকমই কিছু সুন্দর পাহাড়ি জায়গার কথা বলা হয়েছে। চলুন দেখা যাক।
১. অযোধ্যা পাহাড় :
অযোধ্যা পাহাড় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিনে পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত। ভগবান রামা অযোধ্যা থেকে নির্বাসনের পর যাত্রাপথে এই অযোধ্যা পাহাড়েই কিঞ্চিত বিশ্রাম নিয়েছিলেন। অযোধ্যা পাহাড় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৫৫ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এবং সর্বোচ্চ বিন্দু নামে পরিচিত। ট্রেকিং, রক্ ক্লাইমবিং প্রভৃতির জন্য অযোধ্যা পাহাড় পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষন।
• কলকাতা থেকে অযোধ্যা পাহাড়ের দূরত্ব ৩০৪ কিলোমিটার।
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বোকারো বিমানবন্দর, সোনারি বিমানবন্দর এবং ধানবাদ বিমানবন্দর
- রেলপথে : পুরুলিয়া রেলওয়ে স্টেশন
• অযোধ্যা পাহাড়ে যাওয়ার সেরা সময় :
সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস আদর্শ। মন মুগ্ধকর পরিবেশ উপভোগের সেরা সময়।
• দর্শনীয় স্থান :
অযোধ্যা পাহাড়ের কাছাকাছি আছে ডালমা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, ঝিলিমিলি, টাটা স্টিল, জুয়োলজিক্যাল পার্ক, দিমনা লেক। এছাড়া আছে বারেহিপানা ঝর্না এবং জোরান্ডা ঝর্না যা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষন।
২. শিলিগুড়ি :
শিলিগুড়ি ভ্রমন পিপাসু বাঙালীদের কাছে একটি অতি পরিচিত জায়গা। শিলিগুড়ি থেকে অনায়াসেই হিমালয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া পরিবহন ব্যাবস্থা খুবই উন্নত।
• কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বাগডোগরা বিমানবন্দর
- রেলপথে : নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন
-অন্যান্য : বাস, প্রাইভেট গাড়ি
• শিলিগুড়ি যাওয়ার সেরা সময় :
অক্টোবর থেকে মার্চ মাস আদর্শ।
• দর্শনীয় স্থান :
শিলিগুড়ির কাছাকাছি আছে কালী মন্দির, জলদাপাড়া ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, করোনেশান ফলস্ প্রভৃতি উল্লখযোগ্য।
৩. শিমূলতলা :
কলকাতার অসহ্য গরম থেকে রেহাই পেতে শিমূলতলা পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষন। শিমূলতলা বিহারে অবস্থিত। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি। আর সেইজন্যই ব্যস্ত শহরের মানুষজন এই জায়গাটিকে বেশি করে বেছে নেয় সময় কাটাতে।
• কলকাতা থেকে শিমূলতলার দূরত্ব প্রায় ৪০৮ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- রেলপথে : শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন থেকে
- অন্যান্য : ক্যাব, বাস বা প্রাইভেট গাড়ি
• শিমূলতলা ভ্রমনের সেরা সময় :
অক্টোবর ও নভেম্বরের মাঝামাঝি
• দর্শনীয় স্থান :
শিমূলতলার কাছাকাছি আছে লাট্টু পাহাড়, পাটনা লজ, লিলাবারান ফসল্, ধরহারা ফলস্, হালদি ফলস্ ইত্যাদি।
শিমূলতলা প্রকৃতি পর্যবেক্ষন ও রাতের আকাশ উপভোগ করার জন্য আদর্শ।
৪. নেতারহাট :
নেতারহাট পশ্চিমবঙ্গর পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থিত একটি অতি সুন্দর অথচ কম পরিচিত পর্যটন ক্ষেত্র। জয়গাটি ঘন সবুজ বনানীতে মোড়া। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অনন্য সুন্দর নয়নাভিরাম দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার জন্য পর্যটকরা এই জায়গাটি বেছে নেন। উন্নত সভ্যতার আবরন থেকে জায়গাটি সম্পূর্ণ অনাবৃত।
• কলকাতা থেকে নেতারহাটের দূরত্ব ৫৭৫ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বিরশামুন্ডা বিমানবন্দর, রাঁচি বিমানবন্দর
- রেলপথে : রাঁচি স্টেশন
- অন্যান্য : প্রাইভেট গাড়ি (সেরা মাধ্যম)
• নেতার ভ্রমনের সেরা সময় :
ভ্রমনের জন্য জায়গাটি সারাবছরই আদর্শ
• দর্শনীয় স্থান :
বেতলা ন্যাশানাল পার্ক, পুনে ফরেস্ট, মগনোলিয়া পয়েন্ট, আপার ঘাঘরি ওয়াটার ফলস্ ও লোয়ার ঘাঘরি ওয়াটার ফলস্
৫. কার্শিয়াং :
দার্জিলিং যাওয়ার পথে, কার্শিয়াং হল শহুরে কোলাহল ও কর্মব্যস্ততা থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং ছুটি কাটানোর অন্যতম সেরা জায়গা। কার্শিয়াং- এর পাড়ার বেয়ে নামা ঘন সবুজ চায়ের বাগান, মন মুগ্ধকর পর্বতমালা, মন্দির, গির্জা এবং নানা ঐতিহাসিক পটভূমি পর্যটকদের কে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিতে থাকে। দুই-তিন হাতে সময় থাকলে কার্শিয়াং ঘুরে বেড়িয়ে আসতে পারেন। লেপচা ভাষায় কার্শিয়াংকে বলা হয় 'সাদা অর্কিডের দেশ'।
• কলকাতা থেকে কার্শিয়াং এর দূরত্ব ৫৮৪ কিলোমিটার।
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বাগডোগরা বিমানবন্দর
- রেলপথে : নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন
- অন্যান্য : বাস বা প্রাইভেট গাড়ি
• কার্শিয়াং ভ্রমনের সেরা সময় :
পাহাড়ি জায়গা হওয়ার দরুন বর্ষাকাল অর্থাৎ জুন ও জুলাই মাস বাদ দিয়ে যেকোন সময় যাওয়া যায়।
• দর্শনীয় স্থান :
Deer Park, Tea Garden, Eagle's Craig, Ambotia Shiva Mandir, Forest Museum, Netaji Subhas Chandra Museum এবং Darjeeling Himalayan Railway Museum
৬. মিরিক :
মিরিক পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি জায়গাগুলির মধ্যে অন্যতম একটি অতি পরিচিত এবং সুন্দর পর্যটন ক্ষেত্র। মিরিক দার্জিলিং এর যমজ শহর নামেও পরিচিত। মিরিক বৌদ্ধ সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান। তাই সেসব পর্যটক বৌদ্ধ সংস্কৃতির ব্যাপারে আগ্রহী মিরিক তাদের জন্যও আদর্শ জায়গা।
• কলকাতা থেকে মিরিকের দূরত্ব ৫৯৬ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- কলকাতার কাছাকাছি অন্যান্য পাহাড়ি এলাকার মতো মিরিক যাওয়ার কোনো আলাদা বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন নেই। মিরিক যাওয়ার সেরা মাধ্যম হতে পারে বাস।
• মিরিক যাওয়ার সেরা সময় :
মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস মিরিক যাওয়ার জন্য উপযুক্ত
• দর্শনীয় স্থান :
কার্শিয়াং, ঝড়পোখরা, লেপচাজগত, এবং সুখিয়াপোখরা উল্লেখযোগ্য
৭. দার্জিলিং :
দার্জিলিং সম্বন্ধে বিশেষ কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। দার্জিলিং পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে অবস্থিত আরেক অতি সুন্দর পর্যটন ক্ষেত্র। অনন্য সুন্দর মন মুগ্ধকর পাহাড়ি সন্দর্যের জন্য দার্জিলিং কে 'পাহাড়ের রানি' বলা হয়। এছাড়া জায়গাটিকে ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। সারাবছর শীতের পরশ থাকায় পর্যটকদের কাছে দার্জিলিং ভ্রমনের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় জায়গা।
• কলকাতা থেকে দার্জিলিং এর দূরত্ব ৬১২ কিলোমিটার
• কিভাবে যাবেন :
- বিমানে : বাগডোগরা বিমানবন্দর
- রেলপথে : নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন
• দর্শনীয় স্থান :
Tiger Hill, Great Himalayan Railway, Rock Garden, Japanese Peace Pagoda, Batasia Loop, Nightingale Park and Padmaja Naidu Himalayan Zoological National Park
কলকাতার কাছাকাছি এই ছিল কিছু অনন্য সুন্দর পাহাড়ি পর্যটন ক্ষেত্র, কাজের একঘেয়েমি কাটাতে যাদের জুরি মেলা ভার। আমি আশা করি এই প্রতিবেদনটি আপনাদের পরবর্তী সময়ে অনেক কাজে আসবে। ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন । ধন্যবাদ।


0 Comments